WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে পার্থক্য কি?

Wordpress.Org এবং Wordpress.Com এর মধ্যে পার্থক্য

আমরা যারা ব্লগিং এ নতুন তাদের কাছে,ওয়ার্ডপ্রেস কে একটু গোলমেলে মনে হয়। WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে পার্থক্য কি? অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে কোনটি দিয়ে ব্লগিং শুরু করা যায়। WordPress.com নাকি WordPress.org দিয়ে!

আপনি কি জানেন! WordPress.com এবং WordPress.org এই দুইটি আলাদা প্ল্যাটফর্ম। উক্ত প্ল্যাটফর্ম দুইটি কোন কোন দিক দিয়ে আলাদা আজ আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।

ওয়ার্ডপ্রেস হলো একটি বহুল জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইঞ্জিন। এটি একটি সফটওয়্যার। যা আপনি আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন।

অন্যভাবে যদি বলি,আপনার কম্পিউটারে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ যেভাবে কাজ করে ঠিক তেমনি আপনার ওয়েবসাইট এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস একইভাবে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে কাজ করে।

WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে পার্থক্য

যদিও WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের ফিচারগুলো একই ধরণের লাগতে পারে। সবচেয়ে দরকারি এবং দেখার বিষয় হলো কোনটি বেশি আপনার প্ল্যান বা প্রজেক্টের জন্য কার্যকরী।

WordPress.org

WordPress.org এর মাধ্যমে আপনি নিজের সাইটকে নিজে হোস্ট করতে পারবেন। অর্থাৎ, আপনি আপনার পছন্দমত যে কোন হোস্ট প্রোভাইডর থেকে হোস্টিং নিয়ে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি নিজের ইচ্ছামত সবকিছু কাস্টমাইজ করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইট এর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আপনার হাতেই থাকবে। WordPress.org ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন হবে একটি ডোমেইন নেম ও হোস্টিং সার্ভিস।

WordPress.org হলো একটি জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ওয়েবসাইট বিল্ডার। বিশ্বের যত ওয়েবসাইট রয়েছে তার মধ্যে ৪২% ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে WordPress.org এর মাধ্যমে। ওয়ার্ডপ্রেস ডট ওআরজি হচ্ছে সেল্ফ হোস্টড ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম।

এটি শতভাগ ওপেন সোর্স এবং যে কেউ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারেন।এটির ব্যবহার খুব সহজ।

আপনি আপনার পছন্দমত যে কোন হোস্টিং প্রোভাইডর থেকে হোস্টিং নিতে পারেন। এখানে আপনার স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি ইচ্ছামতো সবকিছু করতে পারবেন। এই কারনে অনেক লোক এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

চলুন জেনে নেয়া যাক WordPress.org এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ :

WordPress.org সুবিধা :

প্রথমে আসি, কমপ্লিট কন্ট্রোল এর ব্যাপারে। এটি যেহেতু ফ্রি এবং ওপেন সোর্স সফটওয়্যার, তাই আপনি আপনার সাইটকে ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ করতে পারবেন। এখানে WordPress.com এর টার্মস অফ সার্ভিসেসগুলো ফলো করার প্রয়োজন হবে না।

কাস্টমাইজেশন : WordPress.org এর মাধ্যমে আপনি ইচ্ছামতো আপনি আপনার সাইটকে কাস্টমাইজ করতে পারবেন। নিজের মতো করে ওয়েবসাইটকে সাজাতে পারবেন। এতে আপনি ফ্রি কিংবা পেইড ওয়ার্ডপ্রেস থিম ও প্লাগিন ব্যবহার করতে পারবেন।

মোনেটাইজেশন : আপনার যদি অনলাইন আর্নিং এর ব্যাপারে ধারণা থাকে তাহলে মোনেটাইজেশন সম্পর্কে শুনে থাকবেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ব্লগকে মোনেটাইজ এর জন্য উপযুক্ত করে তাতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পারবেন। বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সবটুকুই আপনার। প্যাসিভ ইনকামের জন্য এটি একটি উত্তম পন্থা।

কনটেন্ট : আপনার হোস্ট করা ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে গুগল এনালিটিক্স এর মাধ্যমে আপনার কনটেন্টগুলো কেমন পারফরম্যান্স করছে তা ট্র্যাক করতে পারবেন। আমরা সবাই চাই আমাদের কনটেন্টগুলো গুগল সার্চ র‍্যাংকিং এ আসুক। লোকজন কনটেন্টগুলো পড়তে আসুক। তার জন্য আমাদের রিসার্চ করতে হয়। এই রিসার্চগুলো করতে আমরা গুগলের সাহায্য নিয়ে থাকি।

সাইট ক্রিয়েশন : যে কোন ধরণের সাইট বানানোর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ডট ওআরজি বেস্ট। এতে আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের প্রতিটি ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি হলো কোন প্রকার বাধা ছাড়াই ব্লগ সাইট হতে অর্থ আয় করতে পারবেন।

WordPress.org এর অসুবিধা :

অন্য সবকিছুর মতো ওয়ার্ডপ্রেস .org এর কিছু অসুবিধা ও রয়েছে। চলুন জেনে নিই :

ওয়ার্ডপ্রেস .org সফটওয়্যার : যদি ও এটি ফ্রি কিন্তু এটা ব্যবহার করার জন্য আপনার একটি ডোমেইন ও হোস্টিং সার্ভিস প্ল্যান ক্রয় করতে হবে। এরপর আপনার ওয়েবসাইট এর ধরণ অনুসারে একটি থিম বাছাই করে সেটি ইনস্টল করে নিতে হবে। তারপর আপনার ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করতে হবে নিজের ইচ্ছামতো।

সাইট মেইনটেন্যান্স : ওয়ার্ডপ্রেস .org হলো সেল্ফ হোস্টেড ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম। সেল্ফ হোস্টেড ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় সাইট মেইনটেন্যান্স এর দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার উপর। এসব এর মধ্যে রয়েছে সিকিউরিটি, ব্যাকআপ ও আপডেট। অনেকের কাছে এগুলো জটিল মনে হলে ও ততটা নয়।

WordPress.com

WordPress.com হলো একটি ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি বিনামূল্যে একটি ব্লগ বা,ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। এটি Blogger ও Tumbler এর মতো একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখান আপনি নিজের ব্লগ তৈরি লেখা প্রকাশ করতে পারবেন। এটি আপনাকে বিনামূল্যে হোস্টিং সার্ভিস দিবে, তবে আপনার ওয়েবসাইটটি ডট ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম ঠিকানায় থাকবে। যেমন – yoursite. wordpress. com।

ওয়ার্ডপ্রেস .comএকটি সম্পূর্ণ হোস্টেড প্ল্যাটফর্ম যা Automatic নামে একটি কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত হয়। এটি আপনার। ওয়েবসাইটের জন্য স্প্যাম মুক্ত, উচ্চমানসম্পন্ন ও নিরাপদ হোস্টিং নিশ্চিত করে থাকে।

আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেস .com কে বাছাই করে থাকেন তাহলে হোস্টিং প্রোভাইডর খোঁজা ও এর সার্ভিস নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। এটি আপনার সাইটের সিকিউরিটি, ব্যাকআপ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সফটওয়্যার এর আপডেটগুলো নিয়ে কাজ করে।

এতে ৩ জিবি পর্যন্ত হোস্টিং সুবিধা রয়েছে। থিম কাস্টমাইজেশন, প্লাগিন এসবের ব্যবহার আপনাকে নিজেই ঠিক করে নিতে হবে। এটি আপনাকে বিনামূল্যে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার সুযোগ দিয়ে থাকে। কাস্টম ডোমেইন ও হোস্টিং এর মত যদি আপনার আরো ফিচার এর প্রয়োজন হয় (স্টোরেজ,ডোমেইন নেম সাপোর্ট, কাস্টম ডিজাইন), তখন আপনি আপনার ফ্রি প্ল্যানকে আপগ্রেড করে প্রিমিয়াম প্ল্যানে করতে পারবেন।

WordPress.com এর সুবিধা :

আসুন জেনে নিই ওয়ার্ডপ্রেস .com এর কিছু সুবিধা।

কোন প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ছাড়া ব্লগিং করার জন্য WordPress.com একটি বেস্ট প্ল্যাটফর্ম।

ফ্রি – তে ব্যবহার : ডোমেইন নেম কিংবা ওয়েব হোস্টিং কেনার জন আপনাকে কোনো টাকা খরচ করতে হবে না। এটি আপনাকে ফ্রি তে সাব ডোমেইন এবং ৩ জিবি পর্যন্ত ফ্রি হোস্টিং সুবিধা দিয়ে থাকে।

সহজ সেটাপ : ওয়ার্ডপ্রেস.কম ব্যবহার করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল একটি একাউন্ট তৈরি করা। তারপর আপনার সাইটের একটি নাম দেয়া।

সহজ মেইনটেন্যান্স : সাইটের ব্যাকআপ ও বিভিন্ন কিছু আপডেট দেওয়ার জন্য চিন্তা করতে হবে না। এগুলো সব ওয়ার্ডপ্রেস .com করে থাকে।

WordPress.com এর অসুবিধা :

এবার আসা যাক ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর অসুবিধাগুলো নিয়ে।

ওয়ার্ডপ্রেস.কম এর ফ্রি হোস্টিং প্ল্যানে অনেকগুলো লিমিটেশন রয়েছে।

নো আইডেন্টিটি : ওয়ার্ডপ্রেস এর ফ্রি প্ল্যানে আপনার সাইটে কাস্টম ডোমেইন এড করতে পারবেন না। আপনি শুধু ফ্রিতে সাবডোমেইন সেট আপ করতে পারবেন। এত বড় একটা নাম ব্যবহারকারীদের মনে রাখা কষ্টকর।

এটির মাধ্যমে সাইটকে প্রফেশনাল লুক ও ব্রান্ড হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করতে চাওয়া ব্যর্থ চেষ্টা ছাড়া আর কিছু হবে না।

নো মোনেটাইজেশন : ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম ব্লগে আপনি এড বসাতে বা শো করাতে পারবেন না। এর মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং ও করা যাবে না। আপনার সাইটে যদি অনেক ট্রাফিক আসে তখন তাদের এডভার্টাইজিং প্রোগ্রাম WordAds এর জন্য এপ্লাই করতে পারবেন। সেটির কিছু লভ্যাংশ ও তাদের দিতে হবে।

নো প্লাগিন : সেল্ফ হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেসের মতো এতে প্লাগিন ব্যবহার করতে পারবেন না। প্লাগিন ইউজ করতে চাইলে তখন আপনার প্ল্যানটি আপগ্রেড করে নিতে হবে।

লিমিটেড কাস্টমাইজেশন : ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস ব্লগে আপনি কাস্টম থিম আপলোড করতে পারবেন না। লিমিটেড কিছু থিম ব্যবহার করতে পারবেন এতে।

নো থার্ড পার্টি স্ক্রিপ্ট : আপনার সাইটে গুগল এনালিটিক্স এর মতো থার্ড পার্টির স্ক্রিপ্ট ইনস্টল করতে পারবেন না। ইউজারদের ট্র্যাক করার জন্য ওয়ার্ডপ্রেসের লিমিটেড স্ট্যাট ব্যবহার করা যাবে শুধু।

এসব কিছু বাদেও ওয়ার্ডপ্রেসের ফ্রি প্ল্যানে কিছু ধরা বাঁধা নিয়ম রয়েছে যা আপনি ভঙ্গ করতে পারবেন না। এটি আপনার সাইটের গ্রোথ এর জন্য একটি বাধাঁ হয়ে থাকবে।

আপনার অনুমতি বা আপনাকে কোন নোটিশ না দিয়ে, ওয়ার্ডপ্রেস আপনার ব্লগটি যে কোন সময় ডিলিট করে দিতে পারে। যদি আপনি তাদের নিয়ম ভঙ্গ করে থাকেন। এই সমস্ত কিছু কিছু জিনিস এর কারনে ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস.কম কে আনরিলায়েবল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হল আসলে কে আপনার ওয়েবসাইটকে হোস্ট করছে। WordPress.org দিয়ে, আপনি আপনার নিজের ওয়েবসাইটকে হোস্ট করতে পারবেন, যাতে আপনি আপনার সাইটের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পান।

অন্যদিকে ওয়ার্ডপ্রেস.কম আপনার জন্য সমস্ত হোস্টিং এর যত্ন নেয়। আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল, হোস্টিং কনফিগারেশন ম্যানেজ, সাইটের ব্যাকআপ এর জন্য চিন্তা করতে হবে না। আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস.কম সাইটের লুক এবং থিম কাস্টমাইজ করতে পারবেন না, যেমন আপনি সেল্ফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করতে পারেন। এছাড়াও, যখন আপনি WordPress.com এর সাথে একটি অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করেন, তখন আপনাকে তাদের পরিষেবার শর্তাবলীতে সম্মত হতে হবে।

এইতো জেনে গেলেন WordPress.org এবং WordPress.com এর মধ্যে পার্থক্য। আপনার জন্য বেস্ট পিক কোনটি? এবং কেন? তার কারনগুলো কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন।ধন্যবাদ।

আরও পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস কি ? কি কি করতে পারবেন ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে!

Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *