Pi Network

Pi Network কি? Pi Network (π) এর কাজ কি !

পাই (π) হচ্ছে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি । এটি বিটকয়েন, লিটকয়েন বা ইথিরিয়ামের মতো ডিজিটাল মুদ্রা বা টাকা। স্ট্যানফোর্ডের একদল পিএইচডি ও গ্রাজুয়েট দ্বারা এই পাই (π) নেটওয়ার্কটি তৈরি করা হয়েছে।

π সংখ্যাটিকে ভিত্তি করে Pi Network এর ব্রান্ডিং করা হয়। পাই (π) দিবস হলো ১৪ই মার্চ, ঐ দিনের ২০১৯ সালে তারা তাদের ফেজ ১ প্রজেক্ট চালু করে এবং Pi mining অ্যাপটি পাবলিশ করা হয়।

পাই (π) কারেন্সি এখনো কোনও ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বা ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে চালু হয়নি। বর্তমানে এটি ডেভেলপিং পর্যায় বা ফেজ ২ এ রয়েছে। ফেজ ৩ চালু হওয়ার পর এটি মার্কেটে ছাড়া হবে।

Pi Network এর কাজ কি?

Pi Network কেন এটি দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে? Pi Network (π) সম্পর্কে অনেকের নানা রকম প্রশ্ন থাকতে পারে, সে সকল প্রশ্নের উত্তর আমাদের এই লেখাটি পড়লে বুঝতে পারবেন :

Pi Network কি MLM ব্যবসা?

না একেবারে না। এটি মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (MLM) ব্যবসা না। এটি আপনার একেবারে নিজস্ব। ব্যক্তিগতভাবে আমি MLM সাপোর্ট করিনা, যদি সেটি প্রোডাক্ট বেস না হয়।

এটা কি ই-কমার্স?

এটি ই-কমার্স ও না। তবে পরবর্তীতে এটি মার্কেটে আসলে ট্রেডিং করা যাবে । অনলাইনে কেনাবেচা করা যাবে । সেক্ষেত্রে আবার ই-কমার্স ও বলা যাবে।

এটা কি ফ্রড/ধোঁকা?

এটি সৃষ্টি করেছেন বিশ্বসেরা Stanford University এর পিএইচডিধারী ও স্টুডেন্টরা। সেহেতু এটি scam বা ফ্রড নয়। আপনি গুগলে সার্চ করে এ সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য জানতে পারবেন।

এটা কি কাজে দেয়?

টাকাকে আমরা দৈনন্দিন কাজে যেভাবে ব্যবহার করি। এটি ও অনলাইনে সেভাবে ব্যবহার হবে। যদিও কাগজের নোট বা বাস্তব নোট নেই কিন্তু এটা পরবর্তীতে ব্যবহার করা যাবে। টাকার মতো রদবদল একচেঞ্জ করা যাবে।

কবে এটা উন্মুক্ত করা হবে ?

এটি এখনো অফিসিয়ালি cryptocurrency এর রেকর্ড blockchain এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। KYC (know your customer) এর প্রক্রিয়া শেষ হলে এটি অফিসিয়ালি blockchain এ অনুমোদন পাবে। এর ট্রায়াল প্রক্রিয়াধীন আছে।

Pi Network (π) এর টুকিটাকি বিষয়

পাই (π) যেহেতু একটি ডিজিটাল কারেন্সি। এর কাজ কেনাকাটা বা খরচ করা। মোবাইল বা কম্পিউটারে মাইনিং করে জমিয়ে রাখা। পরে দাম উঠলে ব্যবহার করা।

পাই একাউন্ট খুলে কি করতে হয় ?

একাউন্ট খুলে তেমন কিছু করতে হয় না। ২৪ ঘন্টা পরপর চেক করে একটিভ করতে হয়। মোবাইলে এটি একবার অন করলে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত মাইনিং (mining) হয়। এখানে মাইনিং মানে হচ্ছে ডিজিটাল টাকা বানানো। Pi Network সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর মোবাইলের র‍্যাম – স্পীড ব্যবহার করে সে ডিজিটাল টাকা বানিয়ে দেয়।

ছদ্মনামে কি পাই (π) একাউন্ট খোলা যায়?

ছদ্মনামে কোন পাই একাউন্ট খোলা যায় না। এটি যেহেতু লিগ্যাল তাই প্রতি একজনই একটিমাত্র একাউন্ট করতে পারবে। সেজন্য আইডি বা ভোটার কার্ডের নাম অনুসারে এই একাউন্ট খুলতে হবে। ভেরিফিকেশনের সময় ছদ্মনামগুলো তারা ডিলিট করে দেবে। তখন সবকিছুর পরিশ্রম পন্ডশ্রমে যাবে।

কি কি দিয়ে এই Pi Network একাউন্ট খুলা যায়?

ফেসবুকের আসল নাম নতুবা মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট খোলা যায়।

কবে এটি ব্যবহার শুরু হবে?

এপ্রিল ২০২১ এর দিকে কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবার কথা। এখন একাউন্ট ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। ১ লক্ষটি একাউন্ট ফ্রীতে ভেরিফিকেশন করতে দিলেও পরেরগুলো হয়তো কিছু পাই কেটে নিতে পারে।

একাউন্ট খুলে লাভ কি?

একাউন্ট খুলে লাভ হলো ডিজিটাল কারেন্সি পাই (π) মাইনিং করে জমিয়ে রাখা। জমিয়ে রাখলেতো কোন অসুবিধা নেই। এগুলোর মূল্য বেড়ে গেলে কেউ না কেউ কিনে নেবে।

মাইনিং রেট কিভাবে বাড়ে?

Pi মাইনিং রেট বাড়ে একজন একাউন্টধারীর আন্ডারে সদস্য কতজন সেই ভিত্তিতে । আবার সেসব সদস্যদের একটিভ থাকতে হবে। একটিভ না থাকলে মাইনিং হয় না। যত বেশি সদস্যের মোবাইল এক সঙ্গে একটিভ থাকবে তত বেশি মাইনিং রেট 0.25, 0.34, 0.80, 1.25, 2.50, 4.36, 6.78, 10.88…. এভাবে ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাবে।

কতদিন পর্যন্ত ফ্রীতে মাইনিং করা যাবে

এটি আসলে ফ্রী নয়। সে ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট এবং মোবাইল ব্যবহার করছে। তাই ফ্রী বলা যাবে না। এটি বর্তমানে সীমিত হয়ে আসছে। কারণ এই ডিজিটাল কারেন্সিগুলোর নির্দিষ্ট একটা পরিমাণ সংখ্যা থাকে। ধরুন, পাই (π) একটা পরিমাণের সংখ্যা অলরেডি দিয়ে রেখেছে ১০ বিলিয়ন পাই (π)। তারপর আর কেউ ফ্রীতে একাউন্ট খুলতে পারবে না। তখন লক করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে এই কারেন্সি ব্যবহারে কিছু মাইনিং কমিশন আসবে। সেগুলো হবে খুব খুব কম। সেসময় অন্য টাকা দিয়ে রদবদল করতে হবে।

পাই (π) কারেন্সি কেন জনপ্রিয় হচ্ছে?

কারণ এটিই সর্বপ্রথম মোবাইল মাইনিং নিয়ে এসেছে এবং এনার্জি খুব কমই খরচ করে ব্যবহারকারীর ব্যাটারিকে সুরক্ষিত রাখে। দিনে শুধু একবার ২৪ ঘন্টার অন্তর ক্লিক করলে মোবাইল অথোমেটিক মাইনিং করবে। Pi Network থেকে শুধুমাত্র একাউন্ট খুলেই অটোমেটিক Crypto currency এর Coins/Points আয় করা যায় কোনো প্রকার ইনভেস্টমেন্ট ও জটিল কাজ ছাড়াই। তাই এটি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

বিঃ দ্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা,বেচা ও মাইনিং করা এখনো আমাদের দেশে অবৈধ। এর জন্য কারো জেলেও যেতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − two =