বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরণ এর ইতিহাস

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরণ করার পেছনে রয়েছে বহু বিচিত্র ঘটনা এবং অবস্থা। নিচে এরকম কয়েকটি দেশের নামকরণের ইতিহাস আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরণ

১. আমেরিকা : আমেরিগো ভেসপুচি নামে একজন পর্যটকের নামানুসারে আমেরিকা দেশটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৪২ সালে বিখ্যাত ইতালীয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করার পর ১৪৯৭ সালে আমেরিগো ভেসপুচি এই মহাদেশে আসেন এবং এর অনেকগুলো অঞ্চল আবিষ্কার করেন।

২. অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়া শব্দের অর্থ হলো এশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল। এ ভূখন্ডটি এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বলে এর নাম হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অনেকের মতে, অস্ট্রেলিয়ার আদিম অধিবাসী ‘অস্ট্রোলয়েড’ এর নাম অনুসারে অস্ট্রেলিয়ার নামকরণ করা হয়েছে।

৩. ফ্রান্স : ‘ফ্রাংক’ নামে একটি গোষ্ঠী বহু প্রাচীনকালে এখানে বসতি স্থাপন করেছিল।তাদের নামানুসারে এই দেশটির নাম হয়েছে ফ্রান্স। তাছাড়া অনেকের মতে, ফ্রান্সের বিজেতা ‘ফ্রান্সিস’ এর নামানুসারে ফ্রান্সের নামকরণ করা হয়েছে।

৪. ইন্ডিয়া : ইন্ডিয়া শব্দের গ্রিক প্রতিশব্দ ইন্ডিগো। ইন্ডিগো শব্দের অর্থ নীল। ব্রিটিশরা বলপূর্বক ভারতে প্রচুর পরিমাণে নীল উৎপাদন করতো। আর এ নীলের মূল শব্দ ইন্ডিগো থেকে ব্রিটিশরা ভারতের নাম রাখে ইন্ডিয়া। তবে কারো মতে ইন্ডাস নাম থেকে এই নামের উৎপত্তি।

ইন্ডিয়াকে আমরা আর এক নামে চিনি সেটি হলো ভারত। পুরাণ মতে রাজা দুষ্মন্ত ও শকুন্তলার ছেলে ভরত এর নাম থেকেই ভারত নামের উৎপত্তি হয়েছে।

৫. পাকিস্তান: পাঞ্জাবের P, আফগানিস্তানের A, কাশ্মীরের K, সিন্ধুর S, এবং বেলুচিস্তানের TAN নিয়ে পাকিস্তানের নামকরণ করা হয়েছে।চৌধুরী রহমত আলী এ নাম গঠন করেন এবং মহাকবি স্যার আল্লামা ইকবাল এ নামের প্রস্তাব করেন। তবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর আফগানিস্তান এর অন্তর্ভুক্ত না হলেও এ নামই থেকে যায়।

৬. স্পেন : এই দেশটিতে ‘হাসপানিয়া’ নামে একটি গোত্র বাস করত। তাদের নামেই এই দেশের নামকরণ করা হয়েছে স্পেন।

৭. মেক্সিকো : প্রাচীনকালে এই দেশে অ্যাস্টেক গোষ্ঠীর রাজারা রাজত্ব করতেন। অ্যাস্টেকদের যুদ্ধ দেবতার নাম ‘মেক্সিটি’ থেকেই এই দেশের নামকরণ করা হয়েছে মেক্সিকো।

৮. বেলজিয়াম : বেলজা নামক একটি প্রাচীন গোত্রের নামানুসারে এই দেশের নামকরণ করা হয়েছে বেলজিয়াম।

৯. নিউজিল্যান্ড : ১৬৪৬ সালের এক ডাচ্ নাবিক এই দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। তিনি হল্যান্ড (নেদারল্যান্ড) এর জিল্যান্ড প্রদেশের নাম অনুসারে এই দ্বীপটির নাম রাখেন নিউজিল্যান্ড অর্থাৎ নতুন জিল্যান্ড।

১০. গ্রীনল্যান্ড : এই ভূখন্ডের সমুদ্রতীরে এক প্রকার ছোট ছোট গাছ জন্মায়, যার পাতা সবুজ। এ কারনেই এর নামকরণ হয়েছে গ্রীনল্যান্ড বা সবুজভূমি।

১১. ইকুয়েডর : ইকুয়েটর (equator) শব্দের অর্থ নিরক্ষীয়। এ ভূখন্ডটি নিরক্ষীয় অঞ্চলে
অবস্থিত বলেই এর নামকরণ করা হয়েছে ইকুয়েডর।

১২. কলম্বিয়া : আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামানুসারে এই দেশটির নামকরণ করা হয়েছে কলম্বিয়া।

১৩. ওয়েস্ট ইন্ডিজ : এই দ্বীপটির অবস্থান মেক্সিকো উপসাগরে। ইউরোপ থেকে পশ্চিম দিকে জাহাজ চালিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালীয় নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস এখানে পৌঁছান। তিনি ভেবেছিলেন তিনি হয়তো ইন্ডিয়াতে এসে পৌঁছেছেন। কিন্তু পরে জানা গেল কলম্বাস যেখানে এসে পৌঁছেছেন সেটি নতুন এক ভূ-খন্ড। তবুও তাট ভ্রান্ত ধারণার প্রতি শ্রদ্বা করেই এর নাম রাখেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ।
১৪. হাঙ্গেরি : প্রাচীনকালে এ দেশে ‘হুন’ এক জনগোষ্ঠী বাস করত। তাদের নামানুসারে এ দেশের নামকরণ করা হয়েছে হাঙ্গেরি।

১৫. কুইন্সল্যান্ড : কুইন্সল্যান্ড অর্থ রাণীর দেশ। ব্রিটেনের মহারানী ভিক্টোরিয়া এই দেশের নামকরণ করেন।এটি নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে পৃথক হওয়ার সময় এই নাম রাখা হয়।

১৬. মেসোপটেমিয়া : বর্তমান ইরাকের প্রাচীন নাম হচ্ছে মেসোপটেমিয়া। দুটি গ্রীক শব্দ থেকে এই নামের উতপত্তি। ‘মেসো’ অর্থ মধ্যস্থল এবং ‘পুটেনুস’ অর্থ নদী। অর্থাৎ দুটি নদীর মধ্যবর্তী স্থান। এই দুটি নদী হলো ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস।

এইতো জেনে গেলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরণ এর ইতিহাস। এই দেশগুলো বাদে অন্য কোন দেশের নামকরণের ইতিহাস বা রহস্য জানা থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আপনি যদি আমাদের সাইটে লিখতে চান সেটা ও জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের নদ নদীর নামকরণের ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 6 =