বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার ঘটনা – আবর্তমান ব্লগ

বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যাপারে সাধারন মানুষের কৌতুহল একটু বেশিই থেকে থাকে। তাঁদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, চলাফেরা, আদব-কায়দা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। এই পর্যন্ত যে সকল লোক পৃথিবীতে খ্যাতি অর্জন করেছেন সবই তাঁদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা, চিন্তাশক্তি,মহৎ উদ্যোগ ও মহৎ কর্মের ফলে তাঁরা আজ আমাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। তাঁদের এ সকল কাজের কারনে তাঁরা আজ বিশ্ববাসীর কাছে চিরস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। চলুন, জেনে নেয়া যাক বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার ঘটনা সমূহ –

আলবার্ট আইনস্টাইন : 

আলবার্ট আইনস্টাইন একবার ট্রেনে চড়ে কোন এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। টিকিটচেকার এসে টিকিট চাইলে আইনস্টাইন জানান টিকিটটি কোথায় রেখেছেন খুঁজে পাচ্ছেন না। টিকিটচেকার আইনস্টাইনকে চিনতে পেরে বললেন, ‘প্রফেসর, আপনাকে আর খুঁজতে হবে না। আমি জানি আপনি নিশ্চয় টিকিট কেটেছেন।’ ‘না, না, খুঁজতে হবে’, তখন আইনস্টাইন ব্যস্ত হয়ে বললেন, ‘ওটা না পেলে আমি জানব না আমি কোথায় যাচ্ছি!’

বিখ্যাত-ব্যক্তিদের-মজার-ঘটনা

এক পার্টিতে আলবার্ট আইনস্টাইনকে চিনতে না পেরে এক তরুণী জিজ্ঞেস করলো,’আপনি কি করেন? আইনস্টাইন বললেন,’আমি পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্র।’
তরুণী তখন অবাক হয়ে বলল,’কী! আপনি এখনও ছাত্র। আমি তো গত বছর পাস করেছি।’

স্যার আইজ্যাক নিউটন :

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন বিয়ে না করলেও কিন্তু প্রেমে পড়েছিলেন ঠিকিই। প্রেমে ব্যর্থতার জন্যই তাঁর আর বিয়ে করা হয়ে উঠেনি।তিনি ছ্যাঁকা খাননি বরং তিনিই ছ্যাঁকা দিয়েছিলেন।শোনা যায়,কোন একদিন নিউটন তাঁর প্রেমিকার সাথে কথা বলছিলেন। কথা বলার কোন এক পর্যায়ে তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। সিগারেটের তৃষ্ণা হয় তাঁর এবং একটি সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে তিনি লাইটারের আগুন ধরালেন। তখনি তাঁর প্রেমিকা প্রবল চিৎকার দিয়ে উঠল – হায় ঈশ্বর! নিউটন যা সিগারেট ভেবেছিলেন তা আসলে সিগারেট ছিল না,ছিল তাঁর প্রেমিকার আঙুল।

আলেকজান্ডার দ্যুমা : 

বিখ্যাত ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার দ্যুমার নাম শোনেনি এমন লোক খুব কমই আছে। তিনি একবার রাশিয়ার টিফলিস শহরে বেড়াতে গিয়ে একটা বইয়ের মার্কেটে যান। সেই মার্কেটের এক দোকানি খবর পেয়ে তাঁকে খুশি করার জন্য অন্যসব লেখকের বই সরিয়ে ফেলে পুরো দোকান দ্যুমার বই দিয়ে ভরে ফেললেন।দ্যুমা দোকানে ঢুকে অবাক হয়ে জানতে চান,’কি ব্যাপার,অন্য লেখকদের বই কোথায়?’ দোকানি  চটপট উত্তর দেন,অন্য লেখকদের সব বই বিক্রি হয়ে গেছে।

অ্যালেক্স ডন : 

বৃটিশ উপনিবেশে একটি আদিবাসী সম্প্রদায় ছিলো যাদেরকে ননমারটিল রেইস(Nonmartil Race) বা যুদ্ধে অপটু বলা হত। তখন তাদের নেতা অ্যালেক্স ডন এ বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন বৃটিশ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করলেন। বৃটিশ প্রশাসন তখন ওই আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাহসের পরীক্ষা অ্যালেক্স ডনকে দিয়েই নেয়ার পরিকল্পনা করল। স্থির করা হলো একজন বৃটিশ সৈনিক পেছন থেকে তাঁর টুপিতে গুলি করবে আর তিনি দাঁড়িয়ে থাকবেন। এটা করতে পারলে পরীক্ষায় পাশ।গুলি করা হলো,অ্যালেক্স ডনের টুপি ফুটো হয়ে গুলি বের হয়ে গেল। তিনি অনড় দাঁড়িয়ে রইলেন।ডনের সাহসিকায় মুগ্ধ হয়ে সবাই সিদ্বান্ত নিলেন,তাঁদেরকে আর Nonmartil Race বলা যাবে না।ডনকে একজন এসে বলল,আপনার টুপিটি নষ্ট হওয়ায় আমরা দুঃখিত। আপনাকে নতুন একটি টুপি দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। তখন ডন মিনমিন করে বললেন, সম্ভব হলে একটা নতুন প্যান্ট দেয়ার চেষ্টা করবেন!

পিসি সরকার :

পিসি সরকার একবার স্টিমারে করে যাচ্ছিলেন। স্টিমারে থাকা কিছু যাত্রী তাঁকে চিনে ফেলার কারনে একটা ম্যাজিক দেখানোর আবদার করল। পিসি সরকার  বললেন,’ঠিক আছে আমি যাদু করে স্টিমারটা থামিয়ে দিচ্ছি। কিছুক্ষণ পর সত্যি-সত্যি স্টিমারটা থেমে গেল।সবাই যখন তাঁর যাদু দেখে মোহিত নামের এক যাত্রী এসে বলল,’আরে,আপনি এখানে,একটু আগে না আপনাকে সারেং এর সাথে কথা বলতে দেখলাম!’

জন ড্রাইডেন:

সপ্তদশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত জন ড্রাইডেন। তবে জন ড্রাইডেন সাহিত্য সমালোচক হিসেবে ও বিখ্যাত ছিলেন। জন ড্রাইডেন প্রায় সময়ই পড়াশোনা আর সাহিত্যচর্চা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন; তাঁর স্ত্রীর লেডি এলিজাবেথ এর প্রতি খুব একটা মনোযোগ দিতেন না। একদিন স্ত্রী লেডি এলিজাবেথ তার পড়ার ঘরে ঢুকে রেগে গিয়ে ড্রাইডেনকে বলেই ফেললেন, ‘সারা দিন যেভাবে বইয়ের ওপর মুখ গুঁজে পড়ে থাকো তাতে মনে হয় তোমার স্ত্রী না হয়ে বই হলে বোধ হয় তোমার সান্নিধ্য একটু বেশি পেতাম। ড্রাইডেন বইয়ের ওপর মুখ গুঁজে রেখেই এলিজাবেথ এর কথার প্রতিউত্তরে বলেন , ‘সে ক্ষেত্রে বর্ষপঞ্জি হয়ো, বছর শেষে বদলে নিতে পারব!’

মাইকেল মধুসূদন দত্ত :

বাংলার বিখ্যাত কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের আর্থিক অনটনের সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য করতেন। একদিন এক মাতাল বিদ্যাসাগরের কাছে সাহায্য চাইতে আসলে তিনি বলেন,’আমি কোনও মাতাল কে সাহায্য করি না।’
‘কিন্তু আপনি যে মধুসূদনকে সাহায্য করেন। উনিও তো মদ্যপান করেন।’
তখন বিদ্যাসাগর ওই লোকটিকে বললেন,’ঠিক আছে। তাহলে আমিও তোমাকে সাহায্য করতে পারি, তবে তার আগে মধুসূদনের মত একটা “মেঘনাদবধ কাব্য” লিখে আন দেখি।’

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর :

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস ছিলেন নিরামিষাশী। তিনি ছোট ছেলে ঈশানচন্দ্র আর বিদ্যাসাগরের ছেলেকে অনেক স্নেহ মমতা করতেন। অন্যায় করলেও প্রশ্রয় দিতেন তেমন কিছু বলতেন না।এভাবে ছেলে দুটোর যখন রীতিমতো বখে যাবার উপক্রম তখন একদিন বিদ্যাসাগর ঠাকুরদাসকে বললেন,’বাবা,আমি তো জানতাম আপনি নিরামিষাশী – আমিষ খান না। কিন্তু এখন তো দেখছি ছেলে দুটোর কচি মাথা দিব্যি চিবিয়ে খাচ্ছেন।’

বিখাত-ব্যক্তিদের-মজার-ঘটনাসমূহ

চার্লি চ্যাপলিন :

কিংবদন্তি অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিনের সুনাম যখন চারিদিকে তখন একটি প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়, কে কতটুকু চার্লি চ্যাপলিনের মত করে অভিনয় করতে পারে। এই আয়োজনের ব্যাপারে জানার পর কৌতুহলবশত চার্লি চ্যাপলিন ও নিজের পরিচয় গোপন করে ওই প্রতিযোগিতায় নাম দেন। এরপর ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম। প্রথম ও দ্বিতীয় যারা তাদের নাম ঘোষণা করা হলো প্রথমে। আর,স্বয়ং চার্লি চ্যাপলিন হলেন তৃতীয়।

রজনীকান্ত সেন :

প্রখ্যাত বাংলা কবি রজনীকান্ত সেন একবার এক বন্ধুর দ্বিতীয় পক্ষের বিয়েতে গিয়েছিলেন অতিথি হিসেবে। নর-কনে ফেরার সময় নববধূর জ্বর হলো। একজন থার্মোমিটার দিয়ে কনের জ্বর মাপলে কবি জিজ্ঞেস করেন,’জ্বর কত’? উত্তর এল,’১০৩’। রজনীকান্ত সেন মুচকি হেসে বললেন,’এ তো বড় মুশকিলের কথা। আগেও এক সতীন রয়েছে,আবার এখানেও দেখি একশো তিন।

স্বামী বিবেকানন্দ : 

ইউরোপ ভ্রমনে বের হয়ে একবার জাহাজ করে স্বামী বিবেকানন্দ ফ্রান্সে যাচ্ছিলেন। তখন সময়টা ছিল সকাল। ঘুম ভাঙলেও তন্দ্রার আমেজ তখন ও স্বামী বিবেকানন্দের চোখে। হঠাৎ তাঁর কানে এল কে যেন বলছে,’ব্যাঙ মশায়ের বে! ব্যাঙ মশায়ের বে!’
এসব শুনে বিবেকানন্দ চমকে উঠলেন। নির্ঘাত কোন ও পাগল এসব আবোল তাবোল বকছে। যখন পুরোপুরি চোখ খুলে দেখলেন বেয়ারা গরম পানির পাত্র নিয়ে তার ঘরে এসে ফঁরাসি ভাষায় বলছে,’ব্যাঁ মশিয়ে এবে!’ যার অর্থ হচ্ছে, ‘সাহেব,গরম পানি এনেছি।’

শের এ বাংলা এ.কে. ফজলুল হক : 

বাংলার বাঘ খ্যাত শের এ বাংলা এ.কে. ফজলু্ল হকের কাছে অনেকেই যেত হরেক রকম তদবির নিয়ে। আর ফজলুল হক ও ওই লোকের সামনেই টেলিফোনে তদবির করে দিতেন। এজন্য তদবিরকারীরা তাঁকে খুব পছন্দ করত। একদিন এরকম সাত-আটজন লোককে তাঁর সামনে বসিয়েই ফোনে তদবির করছেন। এমন সময় একজন অচেনা লোক ঘরে প্রবেশ করল।ফজলুল হক তাকে জিজ্ঞেস করলেন,’কী ব্যাপার, তোমার কী সমস্যা?’ ওই লোক উত্তর দিল,’সার,আমি টেলিফোন বিভাগের লোক। আপনার ফোন লাইনটা গতকাল থেকে কাটা।ঠিক করতে এসেছি।’

আলেক্স হ্যালি : 

‘রুটস’ খ্যাত লেখক আলেক্স হ্যালি রুটস বইয়ের তথ্য সংগ্রহে জাহাজ থেকে জাহাজ এ ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এমনই এক জাহাজে এক ইউরোপিয়ান মহিলা তাঁর কাছে এসে জানতে চাইলেন,’আপনারা আফ্রিকান লোকেরা নাকি এখনও মানুষের মাংস খান?’ এই প্রশ্ন শুনে রেগে গেলে ও তার বহিঃ প্রকাশ দেখাননি। শুধু রাগত মনে উত্তর দিলেন ‘খাই।’ তা শুনে ভড়কে গিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন ওই মহিলা। পরে রাতে খাবার টেবিলে ওই মহিলার পাশের চেয়ারেই বসলেন হ্যালি। সবাইকে খাবার পছন্দ করার জন্য যখন খাদ্যতালিকা দেওয়া হলো তখন হ্যালি মহিলাকে আরও ঘাবড়ে দেওয়ার জন্য ওয়েটারকে ডেকে গম্ভীর গলায় বললেন,’আমাকে জাহাজের যাত্রীর তালিকাটি দিন।

সরোজিনী নায়ডু :

সরোজিনী নায়ডু ছিলেন উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক সংগ্রামী সৈনিক ও কবি।তিনি ভারতের নাইটিঙ্গেল হিসেবে ও পরিচিত।সরোজিনী নায়ডু একবার বিধানচন্দ্র রায়ের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বললেন,’কি হে বিধান,বয়স এখনও ষাট হতে চলল অথচ এখন ও দেখি হাসলে গালে টোল পড়ে!’মুচকি হেসে বিধানচন্দ্র উত্তর দেন,’তা ষাট পেরিয়েও তোমার ওদিকে নজর যায় দেখছি।’

মজার ঘটনা আমাদের সবার জীবনে প্রায় সময়ই ঘটে থাকে। তেমনি বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এর ব্যতিক্রম নন। ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি আছেন যাদের জীবনের কিছু ঘটে যাওয়া ঘটনা শুনলে না হেসে পারা যায় না। যে সকল বই-পত্রিকা থেকে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার ঘটনা সমূহ সংগ্রহ করা হয়েছে তাঁদের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বিখ্যাত ব্যক্তিদের মজার ঘটনা নিয়ে লেখাটি আপনাদের ভালো লাগলে আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Comment

5 + 15 =