ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম কি? কিভাবে একটি চাইল্ড থিম তৈরি করবেন?

ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম

আপনি কি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য চাইল্ড থিম তৈরি করতে চাচ্ছেন? যদি আপনি একটি অসাধারণ থিম পেয়ে থাকেন যা আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে ব্যবহার করতে চান ! তাহলে আপনার অবশ্যই একটি ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম তৈরি করে ব্যবহার করা উচিত।

এটির মাধ্যমে থিমের যে কোন কাস্টমাইজেশন করতে পারবেন। পরে যখন থিম আপডেট করবেন তখন থিমের কাস্টমাইজেশন আগের মতোই থাকবে।

আমাদের এই লেখাটি পড়লে, ওয়েবসাইটের জন্য চাইল্ড থিম কেন রাখা দরকার ও কিভাবে এটি তৈরি করবেন সেগুলো জানতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেস প্যারেন্ট ও চাইল্ড থিম

প্যারেন্ট থিম :

ওয়ার্ডপ্রেস এর মূল থিম যেটা সেটাকে প্যারেন্ট থিম বলা হয়। সহজ ভাবে বলতে গেলে আপনার ওয়েবসাইটটি যে থিমটি দিয়ে তৈরি করেছেন সেটিই হলো প্যারেন্ট থিম।

একটি থিমকে তখনই প্যারেন্ট থিম বলা যায় যখন কেউ এটির জন্য চাইল্ড থিম তৈরি করে। তার আগ পর্যন্ত এটি কেবল একটি থিম।

চাইল্ড থিম :

চাইল্ড থিম হলো মূল থিমের একটি কপি। এটিকে সাব থিম ও বলা হয়। মেইন থিমের ফাইলগুলি সরাসরি পরিবর্তন না করে, আপনি ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম তৈরি করে এর মধ্যে কাজ করতে পারেন। তখন সমস্ত কাস্টমাইজেশন চাইল্ড থিমে স্টোর করা থাকবে। এতে মেইন থিমটি আগের মতো থাকবে।

কেন ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম ব্যবহার করা দরকার?

একটি প্যারেন্ট থিমের সকল বৈশিষ্ট্য চাইল্ড থিমে থাকে। যা প্যারেন্ট থিমকে অপরিবর্তিত রেখে যে কোন কোড কাস্টমাইজ করা সহজ করে তোলে।

যখন প্যারেন্ট থিম আপডেট করবেন, তখন আপনার কোড কাস্টমাইজেশনে ওভার রাইট হবে না। চাইল্ড থিমে আপনার পরিবর্তন করা অংশগুলো আগের মতো থাকবে।

চাইল্ড থিম ব্যবহারের ফলে আপনি যে সব জিনিস পরিবর্তন করেছেন তা সহজে খুঁজে বের করতে পারবেন। যেহেতু চাইল্ড থিমের ফাইলগুলো প্যারেন্ট থিম থেকে আলাদা, আপনি যা সাজিয়েছেন তা সহজে দেখতে পারবেন। এমনকি অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সহজে মুছে ফেলতে পারবেন।

অনেকেই ওয়েবসাইটের লুক ও বিভিন্ন অংশ পরিবর্তনের জন্য সরাসরি মূল থিমে এডিট বা কাস্টমাইজ করে থাকে। যার অর্থ তারা তাদের মূল থিমের ফোল্ডারে ফাইল যুক্ত বা পরিবর্তন করেছেন। যখন থিম ডেভেলপার থিমের নতুন আপডেট নিয়ে আসে এতে বিভিন্ন সমস্যা হয়ে থাকে।

যার ফলে ব্যবহারকারীদের তাদের থিমটি আপডেট না করে থাকতে হয়। যেটা সিকিউরিটির জন্য খারাপ।

নতুবা আপডেট করলে তখন তাদের সমস্ত কাস্টমাইজেশন চলে যায়। তাই ওয়েবসাইটের জন্য চাইল্ড থিম ব্যবহার করা একটা নিরাপদ মাধ্যম।

কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম তৈরি করবেন

ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম চারটি উপায়ে বানাতে পারেন।

১. ম্যানুয়ালি, FTP ক্লায়েন্ট বা ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করে
২. প্লাগিন এর সাহায্যে
৩. থিম এর সাইট থেকে
৪. চাইল্ড থিম জেনারেটর দিয়ে

যাদের কোডিং সম্পর্কে ভালো ধারনা রয়েছে তাদের জন্য ম্যানুয়ালি চাইল্ড থিম তৈরি করা সহজ ব্যাপার।

অনেকে কোডিং না জেনে ও ওয়েবসাইটে আর্টিকেল বা ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে করে থাকে। কোডিং জ্ঞান ছাড়া ম্যানুয়ালি না করাই ভালো। এতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এ ব্যাপারে আপনি যদি কনফিডেন্ট থাকেন নির্দ্বিধায় করতে পারেন।

প্লাগিন দিয়ে ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম

ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম ম্যানুয়ালি করার চেয়ে প্লাগিন ব্যবহার করে সহজে তৈরি করতে পারেন। ছবিতে দেয়া যে কোন একটি প্লাগিন ব্যবহার করে আপনি চাইল্ড থিম বানাতে পারেন।

১. Child Theme Configurator
২. Child Theme Generator
৩. Child Theme Wizard

এই টিউটোরিয়াল বানানোর উদ্দেশ্যে আমরা Child Theme Configurator প্লাগিনটি ব্যবহার করেছি।
১. আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ড্যাশবোর্ডে লগ ইন করার পর প্লাগিন সেকশনে গিয়ে Add new তে যাবেন।

২.সেখানে Child Theme Configurator প্লাগিন সার্চ দিয়ে পাওয়ার পর ইনস্টল ও একটিভ করে নিবেন।

৩. তারপর টুলস অপশনে গেলে Child Themes লেখাটা দেখতে পাবেন এবং ক্লিক করুন।

৪. সেখানে দেয়া Create a new child theme অপশনটি সিলেক্ট করুন। নিচে আপনার থিমটি সিলেক্ট করে Analyze এ ক্লিক করুন।

৫. Child theme directory এর জন্য একটি নাম লিখুন

৬. Select where to save new styles এ গিয়ে Primary Stylesheet (Style.css) সিলেক্ট করুন যেখানে আপনার style টি সেভ হবে।

৭. Select parent theme stylesheet handling এ গিয়ে use the wordpress style queue উল্লেখ করুন। প্লাগিন সে অনুযায়ী একশনগুলো ঠিক করে নিবে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাইল্ড থিম function.php ফাইল আপডেট করবে।

৮. আপনি চাইলে চাইল্ড থিমের নাম, বিবরণ, লেখক ইত্যাদি লিখে পরিবর্তন করতে পারেন।

৯. চাইল্ড থিমের জন্য প্যারেন্ট থিমের Menu,Widgets ও অন্যান্য সেটিংস কপি করার হন্য সেটি সিলেক্ট করুন।

১০. তারপর Click to run the configurator এর পাশে creat new child theme ক্লিক করে চাইল্ড থিমটি তৈরি করুন।

সতর্কতা : চাইল্ড থিমটি একটিভ করার আগে, লাইভ প্রিভিউ চেক করে নিন।

আপনার চাইল্ড থিমটি প্রিভিউ করার পর এবং সেট ঠিক আছে নিশ্চিত হয়ে গেলে, আপনি সেটি একটিভ করতে পারেন।

থিম এর নিজস্ব সাইট থেকে

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য যে থিমটি পছন্দ করবেন তাদের ওয়েবসাইটে যাবেন।তারপর ঐ থিমের ডকুমেন্টেশন সেকশনে গেলে সেই থিমের জন্য Child Theme টি দেখতে পাবেন।

সেখানে থেকে ডাউনলোড করে সাইটে এসে আপলোড করে দিলে কাজ শেষ। প্রতিটি থিমের সাইটে গেলে হয়তো এভাবে নাও পেতে পারেন। তবে চেক করতে পারেন। এতে আলাদাভাবে চাইল্ড থিম তৈরি করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন।

অনলাইন চাইল্ড থিম জেনারেটর দিয়ে

উপরে উল্লিখিত পদ্ধতিগুলি ছাড়াও, আপনি ফ্রি অনলাইন চাইল্ড থিম জেনারেটর ব্যবহার করতে পারেন। এটি সহজ এবং কয়েক মিনিট সময় নেয়।

১. প্রথমে এ সাইটে যেতে হবে https://childtheme-generator.com

২. Create your child theme now বাটনে ক্লিক করুন

৩. ফর্মে আপনার থিম এর নাম লিখে ভালোভাবে লিখুন ছবিটির মতো করে।

৪. সবকিছু দেওয়ার পর create your child theme now বাটনে ক্লিক করে download your child theme now বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিন।

৫. তারপর আপনার চাইল্ড থিমের ফাইলটি আপনার সাইটের থিম অপশনে গিয়ে আপলোড করে একটিভ করে নিন।

এই টিউটোরিয়ালটি পড়ার পরে, আপনি এখন বুঝতে পেরেছেন আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে চাইল্ড থিমটি ব্যবহার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার সাইটটি কাস্টমাইজ করা সহজ করবে এবং প্যারেন্ট থিমটি আপডেট হয়ে গেলে ও থিমে আপনি যে পরিবর্তনগুলি করেছেন সেগুলো হারাতে হবে না।

ওয়ার্ডপ্রেস চাইল্ড থিম ব্যবহারের আর একটি কারণ রয়েছে। সেটি হলো আপনি কোন কোন জিনিসগুলো পরিবর্তন করেছেন তা সহজেই ট্র্যাক করতে পারবেন এবং যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ ওয়ার্ডপ্রেস থিম চেক করার ৫ টি দারুন সাইট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *