ই-কমার্স কি? ই-কমার্স এর প্রকারভেদ

ই-কমার্স

Ecommerce শুরু থেকেই বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে আসছে এবং এটি আমাদের জীবনযাপন, কেনাকাটা এবং ব্যবসায়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। আসুন ইকমার্স সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু বিষয় জেনে আসি।

ই-কমার্স কি?

ই-কমার্স এর অর্থ হলো ইলেক্ট্রনিক কমার্স । অনেক সময় ইন্টারনেট কমার্স নামে ও পরিচিত।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন পণ্য বা সার্ভিস কেনা ও বেচার মাধ্যমকে ই কমার্স বলা হয়। এর পেমেন্ট ট্রানজেকশন অনলাইনে করা হয়। বর্তমানে অনেক কোম্পানি ক্যাশ অন ডেলিভারিতেও প্রোডাক্ট দিয়ে থাকে।

১৯৯৪ সালে প্রথম ই কমার্স এর মাধ্যমে লেনদেন শুরু হয়। Phil Brandenberger নামের একজন ইন্টারনেটে তার মাস্টারকার্ডের এর মাধ্যমে ১২ ডলার দিয়ে Sting Band এর Ten Summoner’s Tale সিডি ক্রয় করেন।

এই লেনদেন ই কমার্সের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে এবং বিশ্বকে ইঙ্গিত দিয়েছে ইকমার্সে লেনদেনের জন্য ইন্টারনেট উন্মুক্ত।

তখন থেকে, ইকমার্স বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা এবং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পণ্যগুলি খুঁজে নেয়া ও ক্রয় করা সহজতর করেছে।

Ecommerce এর ইতিহাস ৪০ বছর আগে শুরু হয়েছিল, যখন ১৯৭০ এর দশকে ইলেকট্রনিক ডেটা ইন্টারচেঞ্জ (ইডিআই) এবং টেলিশপিংয়ের মতো প্রাথমিক প্রযুক্তিগুলো এসেছিল। ই কমার্সের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ লেখাটি পড়তে পারেন।

ই-কমার্স এর প্রকারভেদ

প্রধানত চার ধরণের ইকমার্স মডেল রয়েছে যা গ্রাহক এবং ব্যবসায়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া প্রতিটি লেনদেনের বর্ণনা দিতে পারে।

১. Business to Consumer (B2C) – B2B হলো যখন কোন ব্যবসা একজন গ্রাহকের নিকট পণ্য বা সার্ভিস বিক্রয় করে থাকে।

২. Business to Business (B2B) – যখন কোন ব্যবসা অন্য আরেকটি ব্যবসার মধ্যে পণ্য ক্রয় ও বিক্রয় হয়ে থাকে সেটিকে B2B বলা হয়। B2B ইকমার্স দুটি ব্যবসায়ের মধ্যে অনলাইন বাণিজ্যকে বর্ণনা করে।

৩. Consumer to Consumer (C2C) – C2C হলো যখন কোনও গ্রাহক তাদের ব্যক্তিগত পণ্য অনলাইনে অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।(যেমন – আপনি আপনার পুরানো ফোন/সাইকেল ইত্যাদি বিক্রয়.কম এ বিক্রি করেন)।এই ধরণের ইকমার্স গ্রাহকদের সঠিক ক্রেতা বা বিক্রেতার সন্ধান এবং তাদের নিজস্ব মূল্য নির্ধারণের জন্য আরও বেশি বিকল্প দেয়।

৪. Consumer to Business (C2B) – আগের তিনটি মডেলের তুলনায় এটি কম পরিচিত, C2B হলো যখন কোন গ্রাহক তাদের নিজস্ব পণ্য বা সার্ভিস কোন ব্যবসা বা সংস্থাকে দিয়ে থাকে।

ই-কমার্স এর উদাহরণ

প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির মতো, ইকমার্সের ক্ষেত্রটির নিজস্ব পরিভাষা রয়েছে যা বর্ণনা করে যে কীভাবে পণ্যগুলি সোর্স করা হয়, বিক্রি করা হয় এবং বিতরণ করা হয়। চলুন তাদের কৌশল,পরিকল্পনা এবং সম্পাদন করার সময় ব্যবসাগুলি নিম্নলিখিত পদগুলির সাথে পরিচিত করিয়ে দিই।

খুচরা : কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি কোনও গ্রাহকের কাছে ব্যবসায়ের দ্বারা পণ্য বিক্রয়। এ পণ্যগুলো ফিজিকাল বা ডিজিটাল প্রোডাক্ট ও হতে পারে।

পাইকারি : এটি সাধারণত এক ব্যবসায় থেকে অন্য ব্যবসাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড়ের সাথে প্রচুর পরিমাণে পণ্য বিক্রয় করে।

ড্রপশিপিং : ড্রপশিপিং হলো ব্যবসার একটি পদ্ধতি যা পণ্যগুলিকে স্টকে রাখার কোন প্রয়োজন হয় না। যেখানে তৃতীয় কোন পক্ষ প্রোডাক্ট তৈরি করে থাকে এবং সরাসরি তা গ্রাহকের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

ক্রাউডফান্ডিং : বাজারে নতুন পণ্য বা পরিষেবা প্রবর্তনের জন্য এবং প্রয়োজনীয় মূলধন বাড়ানোর জন্য ভোক্তাদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে এমন একটি কোম্পানি বা সংস্থা।

সাবস্ক্রিপশন : একটি ইকমার্স সাবস্ক্রিপশন পণ্য বা সার্ভিস যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেনা হয় এবং গ্রাহক বাতিল না করা পর্যন্ত রেগুলার বেসিস চলতে থাকে।

১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে অ্যামাজন, আলিবাবার মতো কোম্পানিগুলো (বর্তমানে ইকমার্স জায়ান্ট হিসেবে পরিচিত) সৃষ্টি হওয়ার ফলে ইকমার্স মার্কেটপ্লেস বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলছে।

একটি অনলাইন স্নোবোর্ডিং সরঞ্জামের দোকান খোলার চেষ্টা করার পরে, Tobias Lütke and Scott Lake শপিফাই চালু করেছিল। এটি অনলাইন স্টোর এবং পয়েন্ট-অফ-সেল সিস্টেমের জন্য একটি ইকমার্স প্ল্যাটফর্ম। ২০০৪ সালে শপিফাই আসার পর ইকমার্সকে অন্য এক লেভেলে নিয়ে গিয়েছে।

শপিফাই সম্পর্কে জানতে আমাদের এই লেখাটি পড়তে পারেন : শপিফাই কি? শপিফাই দিয়ে যেভাবে ব্যবসা করবেন !

বাংলাদেশের নামকরা কয়েকটি ই-কমার্স কোম্পানি

আমাদের দেশেও ই-কমার্স সাইটগুলো দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ বাংলাদেশের অনেক ই-কমার্স সাইটগুলি বিনামূল্যে ডেলিভারি, ২৪/৭ অর্ডার সুবিধা, একই দিনের ডেলিভারি এবং আরও অনেক কিছু সরবরাহ করছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ই-কমার্স সাইট রয়েছে যারা বাংলাদেশের ই কমার্স ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো :

আগের চেয়ে বর্তমানে লোকজন এখন অনলাইনে শপিং করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অনলাইন শপিং এর মাধ্যমে লোকজন নিজের পছন্দ মতো যে কোন জিনিস সহজে কিনতে পারছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনলাইন শপিং এক্সপেরিয়েন্স অামাদের দেশে এখনও তেমন ভালো নয়। এর প্রধান কারন হলো কিছু সংখ্যক ইকমার্স সাইটের অব্যবস্থাপনা ও প্রফেশনালিজম না থাকা। তবে একটু সচেতন থাকলে অনলাইন শপিং হতে পারে আপনার জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা।

ই-কমার্স কি? ই-কমার্স এর প্রকারভেদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three + four =

Scroll to top